গল্প:একাকিত্ব


>>>>>>>><<<<<<<
অন্তহীন কিছু কষ্ট আছে যা আজও কেউ শুনল না,হৃদয়
ভাঙা কিছু ঢেউ ছিলে যা ক্ষত সৃষ্টি করে চলে
গেলো,তারা ভরা কিছু রাত ছিলো যা একাই কাটিয়ে
দিলাম,আর কিছু কিছু রাত ছিলো যা নিকোটিনের
ধোয়ায় পার করে দিলাম..!!
জীবনের যখন মানে বুঝতাম না, তখন অনেক রঙিন স্বপ্নকে
ঘিরে শিশির ভেজা সকাল পার করে দিয়েছি!!
মায়ের কোলে ঘিরে জীবনটাকে ছন্দময় মনে হতো,মাঝে
মাঝে মায়ের আঁচলের আভায় ঘুমিয়ে পরতাম,মায়ের
আদরের মাঝে খুজতাম না কোন সুখ,ছুটে চলতাম খেলার
নেশায়,যা খুশি আবদার করতাম,আর সেই আবদারগুলো পূরণ
হওয়ায় অনেক খুশি থাকতাম..!!!
আজ আটটি বছর ধরে কারো আঁচলের নিচে ঘুমাই
না,কারো কাছে খুশির কথা গুলো বলতে পারি না,আর
আবদারগুলোতো কবেই সব মুছে গেছে।
এই আটটি বছর জীবনে অনেক কেঁদেছি,হেসেওছি সবার
সামনে,কিন্তু ওই হাসির মাঝে ছিলো না কোন সুখ,ছিলো
কষ্ট নামের বুকফাটা কন্না কে চাপা দেয়ার অভিনয়
মাত্র।
হাসি মুখে অনেক সহ্য করেছি,অনেক অপমান,অবহেলা,
ঘৃণা এসব নিত্য দিনের সঙ্গি হয়ে দাড়িয়েছে।
-
একটি মেয়ে ছিলো, যে গোধুলী বিকেলে কোথায়
দাড়ালে তার টোল পরা মুখটির সামনে পাখিরা গান
করত,তার চোখের চাউনিতে পাখিরা খুজে পেতো
তাদের কন্ঠের সুর,সে হাসলে সব কিছু থমকে যেতো তার
দিকে...!!
মেয়েটি ছিলো আমার বন্ধু, দু'জন খুব ক্লোজ বন্ধু
ছিলাম,আমরা দু'জন ছিলাম নীল রঙের চিরকুটে লেখা
নীল স্বপ্ন...!!
দু'জনই নীল রঙ পছন্দ করতাম,সব মিলিয়ে আমাদের মাঝে
পুরাটাই মিল ছিলো,তবে একটা দিক ছিলো যেটাতে
আমি তার চেয়ে অনেক পিছিয়ে, সেটা হলো,সে খুব বড়
লোকের দুলালি,আর আমি একজন ঠিকানাহীন প্রথিক
মাত্র...!!!
কথায় আছে তৈল আর জল কখনই এক জায়গায়
থাকেনা,তেমনি আমাদের বন্ধুত্বটা উল্টো,আমি খুবই
অতি সাধারন ঘরের ছেলে জেনেও আমার বন্ধু হতে
চেয়েছে মেয়েটা।আমি শুনেছিলাম বন্ধুত্ব নাকি কোন
জাত কুল মানে না,আমি সেই কথাটির যথাযত প্রমাণ
পেলাম..!!
-
আমি কখনই কোন স্বপ্নের আসা করিনি,তবে নিজের
পায়ে দাড়াব এটাই ইচ্ছা,তবে এটাও একটা স্বপ্ন,আর
স্বপ্ন ছাড়া মানুষ হয় না।
আমি মনে করি কষ্ট স্হায়ী আর সুখ অস্হায়ী...!!
-
[ওহহহ্ পরিচায়টা দেওয়া হয়নি,আমি তোরিয় আর মেয়েটা
তিথি]
-
তিথির আর আমার বন্ধত্বটা একটা এক্সিডেন্ট,আমি
কলেজ থেকে যাবার সময় সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলাম,
তখন একটা প্রায়ভেট কার এসে আমাকে ধাক্কা দেয়,আর
ধাক্কাটা লাগে আমার এক সাইডে,তাই রাস্তার
এপাসটায় ছিটকে পড়ে গিয়েছিলাম,যখন পড়ে গেলাম
তখন আমি বুঝলাম কারো ওপর ভর করে আছি আমি,তখন
তাকিয়ে দেখি একটা মেয়ে, না মেয়ে না র্সগের
পরি,অতঃপর আমিই উঠে দাড়িয়ে পরলাম,কারন অচেনা
শহর কেউ যদি কিছু বলে।
অতঃপর মেয়েটাও উঠে দাড়িয়ে পরল।
-
সরি,আসলে আমি বুঝতে পারিনি!!--(তোরিয়)--
আপনি কেন সরি বলছেন,দোষটাতো আপনার নয়,আর
দোষটা হলো প্রায়ভেট কার এর,যাই হোক ঠিক
আছেনতো?কোথায় লাগেনিতো??--(তিথি)--
জ্বি না লাগেনি কোথাও,আপনার কোথাও লাগেনিত??--
(তোরিয়)---
না লাগেনি,এই আপনার হাতে কি হইছে দেখি??--(তিথি)-
-
কই কিছু না[হাতটা লুকিয়ে নিলাম,কারন কেটে গেছে]--
(তোরিয়)--
দেখি,এতোটা কেটে গেছে আর আপনি বলছেন কিছু
হয়নি,দিন হাতটা!!!--(তিথি)--
পরে তিথি আমার হাতটি তার রুমাল দিয়ে বেধে
দিলো,এর পর থেকে আমাদের বন্ধত্বটা শুরু হলো।
আর তিথিকে আমি কলেজের ফাষ্ট দিন থেকেই
চিনি,ভালো লেগেছিলো কলেজ এর ফাষ্ট দিনই,কিন্তু
আমার এই অগোছালে জীবটার সাথে কাউকে জড়াতে
চাই না বলে,কাউকে কিছু বলি না,আসলে আমি কারো
দিকে তাকাই না,নিজের একাকিত্ত নিজের মাঝেই
রেখে দি...!!
-
একদিন কলেজে একা একা ক্যাম্পাসে বসে ছিলাম,তখন
তিথি এসে পিছন থেকে আমার চোখটা ধরল।
বলোতো আমি কে??--(তিথি)--
কে আপনি বুঝতে পারছি না,ওহহ হু তিথি!!--(তোরিয়)--
অই তুমি আমাকে কিভাবে চিনলে,হুহ বেপার কি??--
(তিথি)---
জানিনা!!--(তোরিয়)--
একা একা কেন? কোন বন্ধু নাই তোমার??--(তিথি)--
না,আমার কোন বন্ধু নাই!!--(তোরিয়)--
আমি তোমার বন্ধু হতে চাই,আমাকে নিবে তোমার ফাকা
বন্ধুর জায়গাটায়??--(তিথি)--
নিশ্চুপ!!--(তোরিয়)--
কি হলো বলো??--(তিথি)--
আমি খুব গরিব ঘরের ছেলে আর তুমি অনেক বড় ঘরের
মেয়ে,তৈল আর জল কখনও এক হয় না!!---(তোরিয়)--
বন্ধত্বর মাঝে এসব ম্যাটার করে না,আমি তোমার বন্ধু হব
এটাই শেষ কথা,দরকার পরলে![কথাটি বলই দিলে একটা
হাসি,আর হাসির মাঝে অপূর্ব একটা টোল পরে গেলে
তার মুখের বাম পাসটায়]--(তিথি)--
ওকে আমি রাজি!!কিন্তু আমাকে একা রেখে চলে
যাওয়া যাবে না!!--(তোরিয়)--
আমি সব কিছুতেই রাজি!চলো ক্লাস করব??--(তিথি)--
হুহ!চলো..!!--(তোরিয়)--
-
আমাদের বন্ধত্বটা অনেক মুজবুত ছিলো,তিথি আমায়
অনেক আগলে রাখত,প্রায় সময় ফোন করে খবর নিতো
আমি খেয়েছি কিনা,চুলটা গোছালো আছে কি না,এক
কথায় সব কিছুর খোজ খবর নিতো...!!!
এইভাবে দু'টি বছর কেটে গেলো,সামনেই আমাদের ইন্টার
এর ফাইনাল পরিক্ষা..!!
-
একদিন ক্যাম্পাসে বসে আছি তিথি আর আমি,দুজনই
নিশ্চুপ, হঠাৎ করে তিথি বলে উঠল।
খুব ধন্যবাদ তোমাকে তোরিয়!!--(তিথি)--
কেন ধন্যবাদটা জানতে পারি কি?--(তোরিয়)--
এইযে দু'টি বছর পার করে দেবার জন্য!--(তিথি)--
মানে এসব কি বলছো তুমি??--(তোরিয়)--
ও এখনও বুঝনি,আসলে বোকা টাইপের ছেলেগুলা এমনই
হয়,আরে বাবা আমি তোমার সাথে টাইম পাস্ করলাম, আর
তুমি আমার বন্ধু হবার কোন যোগ্যতাই নেই,ভাবলাম একটা
বোকা ছেলের সঙ্গে দু'টি বছর কাটাই,তাই তোমাকে
বেছে নেওয়া,আর কি যেন বলছিলে ছেড়ে যাবেনাতো
নাকি কি যেন,পাগল হয়েছো নাকি তোমার সাথে আমি
থাকব,আমার বয় ফেন্ড একটু বাইরে গিয়াছিলে,তাই
ভাবলাম সময় কাটাব কি ভাবে,তাই তোমাকে আর
কি,আচ্ছা যাই হোক ভালো থেকে বাই,আর হু আমাকে
আর কখনও ভূলেও ডিস্টার্ব করবা না নইলে খবর আছে!!--
(তিথি)--
ওকে!![মাথা নিচু করে]--(তোরিয়)--
-
তখন তিথি চলে যাবার পরে অনেক কেঁদেছিলাম,আবার
সেই একাই হয়ে গেলাম,আসলেইতো তৈলে আর জলে
কখনও মিলে না,এটার আবারও প্রমাণ পেলাম,কষ্ট হয়তো
আমার পিছু সারা জীবন তাড়া করে বেরাবে।
ইন্টার ফাইনাল পরিক্ষা শেষ হয়ে গেলো,তিথিকে আর
কখনই ফোন দিয়ে ডিস্টার্ব বা কথা বলার চেষ্টা করিনি।
পরে সেই কলেজ থেকে চলে আসি,তার পর আর তিথির
সাথে কখনও কথা হয়নি,আমি আমার নিজের জীবনটা
নিয়ে ব্যাস্ত,এখন আর কাউকে নিয়ে ভাবি না,সেই ভয়টা
আজও তাড়া করে বেড়ায়....!!!!
>>>>>>>>>><<<<<<<
লেখক:-- স্বপ্ন হীন চোখে অশ্রু (অগোছালো মি.)"

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন